বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ১৯ জুলাই ২০১৭

সেন্টার ফর রিচার্স রিঅ্যাক্টর

ভূমিকা

তিন মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন ট্রিগা মার্ক-২ (TRIGA: Training Research Isotope prooduction, General Atomics) গবেষণা রিঅ্যাক্টরটি আশির দশকের মাঝামাঝি যুক্তরাষ্ট্রের জেনারেল এটমিকস কোম্পানীর নিকট হতে ক্রয় করে সাভারস্থ পরমাণু শক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে স্থাপন করা হয়। এটি দেশের একমাত্র পারমাণবিক চুল্লি এবং অন্যতম স্থাপনা। ১৯৮৬ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর criticality অর্জনের মাধ্যমে রিঅ্যাক্টরটির চালনা শুরু হয়। সেন্টার ফর রিসার্চ রিঅ্যাক্টর (সিআরআর)-এর প্রকৌশলী/বিজ্ঞানীগণ প্রায় তিন দশক ধরে সুষ্ঠুভাবে রিঅ্যাক্টরটি চালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের যাবতীয় কাজ সম্পাদন করে আসেছেন। গবেষণা রিঅ্যাক্টরটি রেডিওআইসোটোপ উৎপাদন, বিভিন্ন গবেষণা ও ‍উন্নয়ন কার্যক্রম যেমন-নিউট্রন এ্যাকটিভেশন এ্যানালাইসিস, নিউট্রন রেডিওগ্রাফি, নিউট্রন স্ক্যাটারিং এবং জনবল প্রশিক্ষণ, ইত্যাদি কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। দেশের একমাত্র পারমাণবিক চুল্লিটি ব্যবহার করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েটসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীগণ তাদের একাডেমিক শিক্ষা-কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। রিঅ্যাক্টর চালানোর অভিজ্ঞতা এবং লব্ধ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে সিআরআর-এর প্রকৌশলী/বিজ্ঞানীগণ চলমান রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ দেশের নিউক্লিয়ার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে যথেষ্ট ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন। গবেষণা রিঅ্যাক্টর এবং এইআরই-র নিউক্লিয়ার সেফগার্ডস সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করে সিআরআর প্রতি বছর আইএইএ-তে প্রেরণ করে থাকেন। উল্লেখ্য যে, নিউক্লিয়ার সেফগার্ডস সংক্রান্ত কার্যক্রম সেন্টার ফর রিসার্চ রিঅ্যাক্টর নির্ভূলভাবে এবং সঠিক সময়ে সম্পাদন করার ফলে আইএইএ বাংলাদেশকে ২০০৭ সালে ইনট্রিগেটেড সেফগার্ডস এর অন্তর্ভূক্ত করে।

বিএইসি ট্রিগা গবেষণা রিঅ্যাক্টরের বর্ণনা

 

রিঅ্যাক্টর

বিএইসি ট্রিগা গবেষণা রিঅ্যাক্টরটি সর্বোচ্চ ৩ মেগাওয়াট তাপীয় ক্ষমতায় চালানো যায়। এছাড়া পালস মোডে অল্প সময়ের জন্য ৮৫২ মেগাওয়াটে চালানো সম্ভব। রিঅ্যাক্টরটিকে তিনটি মোডে চালানো যায়-(1) Steady state mode, (2) square wave mode এবং (3) pulse mode। Steady state mode-এ আবার দুইভাবে চালানো যায় -1) Natural Convection Cooling Mode (NCCM) and (2) Forced Convection Cooling Mode (FCCM)। ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতা পর্যন্ত NCCM মোডে চালানো যায়। ৫০০ মেগাওয়াট এর বেশি ক্ষমতায় চালানো জন্য FCCM মোড ব্যবহার করতে হয়।

 

রিঅ্যাক্টর ট্যাংক

রিঅ্যাক্টর কোরটি, এ্যালুমিনিয়াম এলোয় এর তৈরি একটি রিঅ্যাক্টর ট্যাংকের তলায় বসানো হয়েছে। রিঅ্যাক্টর ট্যাংকটির ‍উচ্চতা ৮.২৩ মিটার এবং ব্যাস ১.৯৮ মিটার। এটি ২৪,৮৬৫ লিটার ডিমিনেরালাইজড পানি দ্বারা পরিপূর্ণ।

 

রিঅ্যাক্টর কোর

রিঅ্যাক্টর কোরে মোট ১০০ টি ফুয়েল রড, ৬টি কন্ট্রোল রড, ১৮টি গ্রাফাইট ডামি রড, ১টি ড্রাই সেন্ট্রাল থিম্বল, ১টি ইরেডিয়েশন টার্মিনাল (রেবিট টার্মিনাল) এবং ১টি নিউট্রন এর উৎস বসানো আছে। রিঅ্যাক্টর ফুয়েলের তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণের জন্য দুটি ফুয়েল রডে থার্মোকাপল বসানো আছে। রিঅ্যাক্টর এর ক্ষমতা মাপার জন্য রিঅ্যাক্টর কোরের বাইরে ৪ টি নিউট্রন ডিটেকটর বসানো আছে।

 

ফুয়েল

বিএইসি ট্রিগা গবেষণা রিঅ্যাক্টরটিতে ফুয়েল হিসাবে ১৯.৭% সমৃদ্ধকরণ ইউরেনিয়াম (ইউরেনিয়াম-২৩৫) ব্যবহার করা হয়। প্রধান মডারেটর হিসাবে জিরকোনিয়াম হাইড্রাইড এবং সেকেন্ডারি মডারেটর হিসাবে পানি ব্যবহার করা হয়।  Er-167 burnable poison হিসাবে কাজ করে। ট্রিগা ফুয়েলের একটি অন্যতম সেফটি ফিচার হল এর Prompt Negative Temperature Coefficient of Reactivity। অর্থাৎ জ্বালানীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে রিঅ্যাক্টর এর ক্ষমতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমে যাবে। এই সেফটি ফিচারটির জন্য রিঅ্যাক্টরটিকে পালস মোডে চালানো সম্ভব হয়।

 

কন্ট্রোল রড

রিঅ্যাক্টরটিকে বোরন-বারবাইড (B4C) এর তৈরি ৬টি কন্ট্রোল রড দ্বারা কন্ট্রোল করা হয়। কন্ট্রোল রডগুলো যখন রিঅ্যাক্টর কোরে সম্পূর্ণরুপে ভিতরে বসানো থাকে, তখন রডগুলো যে কোনো ধরণের নিউট্রনকে শোষণ করে নেয় বলে রিঅ্যাক্টরটি সাব-ক্রিটিক্যাল অবস্থাই থাকে। কন্ট্রোল রডগুলোকে যখন ধীরে ধীরে কোর থেকে উপরে উঠানো হয়, তখন ফিশন এর সংখ্যা বাড়তে থাকে ফলে রিঅ্যাক্টর এর ক্ষমতাও বাড়তে থাকে। Insturmentation and control system এর মাধ্যমে রিঅ্যাক্টরটিকে ম্যানুয়ালি অথবা অটোমেটিক্যালি চালানো বা বন্ধ করা যায়।

 

ইরেডিয়েশন ফ্যাসিলিটিসমূহ:

 

বিএইসি ট্রিগা গবেষণা রিঅ্যাক্টরটিতে রেডিওআইসোটোপ উৎপাদন ও গবেষণা করার জন্য বিভিন্ন ইরেডিয়েশন সুবিধাসমুহ হল-

  • Dry central irradiation tube
  • Neutron beam tubes
  • Pneumatic transfer system
  • Rotary specimen rack
  • Triangular cut-outs in the core
  • Hexagonal cut-out at the center of the core
  • Thermal column for future use (presently filled up with heavy concrete blocks)

লক্ষ্য/উদ্দেশ্য

  • দেশের নিউক্লিয়ার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে গবেষণা ও উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর সহায়তা প্রদান।
  • রেডিওআইসোটোপ ‍উৎপাদন ও গবেষণা কার্যক্রম (যেমন-নিউট্রন এ্যাকটিভেশন এ্যানালাইসিস, নিউট্রন স্ক্যাটারিং, নিউট্রন রেডিওগ্রাফী ইত্যাদি)।
  • নিউক্লিয়ার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দক্ষ জনশক্তি তৈরি। 

 

কার্যক্রম/কর্মকান্ড

রিঅ্যাক্টর চালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ

৩ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন গবেষণা রিঅ্যাক্টরটির চালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সিআরআর এর উপর ন্যস্ত। সাভারস্থ গবেষণা রিঅ্যাক্টরটি ১৯৮৬ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত এনালগ কন্ট্রোল কনসোল সিস্টেমের মাধ্যমে সিআরআর এর প্রকৌশলী/বিজ্ঞানীগণ সুষ্ঠুভাবে চালনা করে আসছেন। বর্তমানে গবেষণা রিঅ্যাক্টরটি ডিজিটাল কন্ট্রোল কনসোলের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্ষমতায় (৫০ ওয়াট-৩ মেগাওয়াট) গবেষণা ও উন্নয়নমূলক কাজে নিয়মিতভাবে চালনা করা হচ্ছে। রিঅ্যাক্টরটি চালনা করে রিঅ্যাক্টর এর বিভিন্ন সেফটি প্যারামিটার পরিমাপ, নিউট্রন বীম ব্যবহার করে বিভিন্ন গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম যেমন-নিউট্রন এ্যাকটিভেশন এ্যানালাইসিস, নিউট্রন রেডিওগ্রাফি, নিউট্রন স্ক্যাটারিং, শিক্ষা এবং জনবল প্রশিক্ষণ ইত্যাদি কাজে রিঅ্যাক্টরটি  ব্যাবহৃত হয়ে আসছে।

 

গবেষণা ও শিক্ষা কার্যক্রম

রিঅ্যাক্টর চালনা করে সিআরআর-এর বিজ্ঞানী/প্রকৌশলীগণ রিঅ্যাক্টর এর বিভিন্ন সেফটি প্যারামিটার পরিমাপ করেন। আইএনএসটি-র রিঅ্যাক্টর এন্ড নিউট্রন ফিজিক্স ডিভিশনের বিজ্ঞানীগণ রিঅ্যাক্টরের নিউট্রন বীম ব্যবহার করে নিউট্রন এ্যাকটিভেশন এ্যানালাইসিস এর সাহায্য মাটি, খনিজ শিলা, বায়ু দূষণজাত পদার্থ, শাকসবজি, পানি ইত্যাদি নমুনার মৌল বিশ্লেষণ করেন। নিউট্রন রেডিওগ্রাফি পদ্ধতি ব্যবহার করে বিভিন্ন পদার্থের ফাটল এবং ফাঁকা সহ এর আভ্যন্তরীণ গঠনের বিভিন্ন ক্রটি নিরূপন করেন। এছাড়াও এই পদ্ধতিতে বিভিন্ন ধাতু, বিমানের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, ভবন নির্মাণ সামগ্রীর ক্রটি নির্ণয়ের কাজে ব্যবহৃত হয়েছে। নিউট্রন স্ক্যাটারিং গ্রুপ পারমাণবিক চুল্লিটি ব্যবহার করে বিভিন্ন পদার্থে অতিসূক্ষ গঠনগত বিন্যাস সম্পর্কিত তথ্যাদি সংগ্রহ করে থাকে যা এদের প্রযুক্তিগত প্রয়োগ নির্ধারণের জন্য অপরিহার্য। এই সুবিধার মাধ্যমে সিরামিক, স্টিল, ইলেকট্রনিক্স এবং ইলেকট্রিক্যাল শিল্টগুলো তাদের উৎপাদিত পণ্য এবং নির্মাণ পদ্ধতি উন্নয়নে লাভবান হতে পারে। প্রতি বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মাস্টার্স ছাত্রদের বাবহারিক ক্লাস এবং পরীক্ষা নেয়া হয়।

রিঅ্যাক্টর এবং এতদসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গবেষণাগার ব্যবহার করে পি.এইচডি, এম.ফিল, মাস্টার্স শিক্ষার্থীদের থিসিসের কাজ সম্পন্ন করা হয়। সেন্টার ফর রিসার্চ রিঅ্যাক্টরের বিজ্ঞানী/প্রকৌশলী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিউক্লিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং/মাস্টার্স শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিয়ে থাকেন।  

 

রিঅ্যাক্টরের ভৌত ও অপারেশনাল নিরাপত্তা উন্নীতকরণ

রিঅ্যাক্টর ফ্যাসিলিটিতে বিভিন্ন স্থানে ১৮টি সিসিটিভি ক্যামেরা, এন্ট্রি কন্ট্রোল সিস্টেম, ইনট্রুডার এলার্ম সিস্টেম এবং পেরিমিটার বীম ডিটেকটর স্থাপনের মাধ্যমে রিঅ্যাক্টর ফ্যাসিলিটির ভৌত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এছাড়াও অ্যাড্রেসিবল ফায়ার ডিটেকশন এন্ড এলার্ম সিস্টেম ও ফায়ার হাইড্রেন্ট সিস্টেম স্থাপনের মাধ্যমে রিঅ্যাক্টর ফ্যাসিলিটির অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ভুমিকম্পের সময় নিরাপদে রিঅ্যাক্টর বন্ধ হওয়ার জন্য সিসমিক সুইচ স্থাপনের মাধ্যমে রিঅ্যাক্টরের অপারেশনাল সেফটি জোরদার করা হয়েছে।

 

রিঅ্যাক্টরে ডিজিটাল কন্ট্রোল কনসোল স্থাপন

গবেষণা রিঅ্যাক্টরের এনালগ কনসোলের খুচরা যন্ত্রাংশ দুষ্প্রাপ্যতার কারণে এনালগ কন্ট্রোল কনসোল সিষ্টেম পরিবর্তন করে তদস্থলে নতুন ডিজিটাল কন্ট্রোল কনসোল জুলাই ২০১১-জুন ২০১২ সময়ে স্থাপন করা হয়। সিআরআর এর প্রকৌশলী/বিজ্ঞানীদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও GA-ESI, USA এর প্রকৌশলীদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে গবেষণা রিঅ্যাক্টরে ডিজিটাল কন্ট্রোল কনসোল স্থাপনের কাজ শেষে জুন ২০১২ থেকে পুনরায় রিঅ্যাক্টর চালনা করা হয়। বর্তমানে সরকারের ডিজিটাল ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রিঅ্যাক্টরের ডিজিটাল কন্ট্রোল কনসোল সিস্টেম স্থাপনের কাজ একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

 

জনবল প্রশিক্ষণ

রিঅ্যাক্টর ফ্যাসিলিটিতে আর্ন্তজাতিক মান বজায় রেখে প্রকৌশলী/বিজ্ঞানীকে রিঅ্যাক্টর অপারেটর এবংঊর্ধ্বতন রিঅ্যাক্টর অপারেটর লাইসেন্স প্রদানের লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। বর্তমানে রিঅ্যাক্টর ফ্যাসিলিটিতে ৪ জনকে রিঅ্যাক্টর অপারেটর এবং ৩ জনকে ঊর্ধ্বতন রিঅ্যাক্টর অপারেটরের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। দেশে বিভিন্ন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ/বিষয়ের ছাত্রদের রিঅ্যাক্টর ফ্যাসিলিটিতে তাত্ত্বিক জ্ঞান ছাড়াও তাদের ব্যবহারিক ক্লাস নেয়া হয়। এছাড়া দেশের বিভিন্ন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বি.এসসি. ইঞ্জিনিয়ারিং পর্যায়ের ইন্ডাস্ট্রিয়াল এটাচমেন্ট প্রোগ্রামের আওতায় সিআরআর-এ রিঅ্যাক্টর এবং এতদসংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রতি বছর ৩০০ জনের অধিক ছাত্রদের ব্যবহারিক জ্ঞান প্রদান করা হয়ে থাকে। এছাড়া কমিশনের বেসিক নিউক্লিয়ার ওরিয়েন্টশন কোর্স, রিঅ্যাক্টর ইঞ্জিনিয়ারিং ফলোআপ ট্রেনিং কোর্সের আওতায় বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের রিঅ্যাক্টর এবং এতদসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সম্যক জ্ঞান প্রদান করা হয়ে থাকে।

 

Safeguards সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমঃ

IAEA-এর সাথে  Non-proliferation Trity (NPT)-এর অধীনে সম্পাদিত দ্বিপাক্ষিক Safeguards Agreements এবং Protocol Additional to the Safeguards Agreements এর আওতায় বিভিন্ন ধরনের প্রতিবেদন যেমন Inventory Change Report (ICR), Material Balance Report (MBR), Physical Inventory Listing (PIL), Yearly and Quarterly Update Declarations ইত্যাদি সিআরআর নিয়মিতভাবে প্রস্তুত করে আসছে। প্রতি বছর কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এসকল প্রতিবেদন IAEA-তে প্রেরণ করা হয়।

 

রিঅ্যাক্টর পরিদর্শন

বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকসহ বিভিন্ন পেশার প্রতি বছরে গড়ে প্রায় ৫০০ জন দেশী/বিদেশী দর্শনার্থী রিঅ্যাক্টর পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন কালে দর্শণার্থীদের রিঅ্যাক্টর চালনা এবং নিরাপত্তা বিষয়ে সম্যক ধারণা প্রদান করা হয়ে থাকে।

 

আর্ন্তজাতিক ওয়ার্কসপ আয়োজন

রিঅ্যাক্টরের সেফটি ব্যবস্থাপনা জোরদারের লক্ষ্যে ২০১৪ সালে FNCA SMS Workshpo & Peer reviews of BTRR, 19-23 May, 2014, Dhaka, Bangladesh আয়োজন করা হয়। Peer revies ইভেন্ট FNCA এর এগারটি দেশের ১৩ জন বিশেষজ্ঞ রিঅ্যাক্টরের সেফটি সিস্টেম রিভিউ করেন। Peer review টিম রিঅ্যাক্টর ফ্যাসিলিটির Good practice এবং Weakness সমূহ নিরুপণ করেন যা রিঅ্যাক্টরের সেফটি জোরদারে সহায়ক হয়েছে।

 

অর্জিত সাফল্য

রিঅ্যাক্টর চালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে

  • ত্রিশ বছরেরও অধিক সময় ধরে সফলতার সাথে বিভিন্ন ক্ষমতায় নিয়মিতভাবে রিঅ্যাক্টর চালিয়ে পরমাণু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন ব্যবহারকারী গ্রুপকে নিউট্রন বীম প্রদান করা হয়। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং কমিশনের বিভিন্ন ট্রেনিং এর অংশ হিসেবে  নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর সেফটি সম্পর্কিত পরীক্ষণের জন্য নিয়মিতভাবে রিঅ্যাক্টর চালানো হয়।  
  • রিঅ্যাক্টরের রেডিয়াল বীমটিউব-১ ছিদ্র বন্ধ করার জন্য আর্জেন্টিনার মেসার্স ইনভ্যাপ কোম্পানীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা এ কাজের জন্য প্রায় ২.৪ কোটা টাকা প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছিল। দেশীয় প্রতিষ্ঠান বুয়েট, বিটাক এবং সাভারস্থ আইএনএসটি ও সিইএফ-এর সহায়তায় সিআরআর মাত্র ১৩ লক্ষ টাকা ব্যয়ে বীমটিউব লীক মেরামত করতে সক্ষম হয়। এখান থেকে দেখা যায় যে, স্থানীয়ভাবে বীমটিউব ছিদ্র বন্ধ করার কাজ সম্পন্ন করার ফলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা সম্ভব হয়েছে।
  • সিআরআর-এর প্রকৌশলী/বিজ্ঞানীদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও GA-ESI, USA এর প্রকৌশলীদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে ডিজিটাল কনসোর স্থাপনের কাজ শেষে জুন ২০১২ থেকে রিঅ্যাক্টর চালানো হয়। বর্তমানে ডিজিটাল কন্ট্রোল কনসোলের মাধ্যমে নিয়মিতভাবে রিঅ্যাক্টর চালনা করা হচেছ। ডিজিটাল কন্ট্রোল কনসোলের মাধ্যমে রিঅ্যাক্টর চালনা সিআরআর-এর একটি বড় সাফল্য।
  • রিঅ্যাক্টর ব্যবহার করে যে পরিমাণ মেডিক্যাল আইসোটোপ উৎপাদন করা হয়েছে (২০০৮ পর্যন্ত) তার মোট বাজার মূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা।

শিক্ষা ক্ষেত্রে

  • রিঅ্যাক্টর এবং এতদসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গবেষণাগারের সুবিধা ব্যবহার করে এ যাবত প্রায় ৮০ জন শিক্ষার্থী তাদের মাস্টার্স/এমফিল/পিএইচডি পর্যায়ের থিসিসের কাজ সম্পন্ন করেছেন। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং পর্যায়ের ৭৪৫ জন ছাত্রদের ইন্ডাস্ট্রিয়াল এটাচমেন্ট প্রোগ্রামে আওতায় সিআরআর-এ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, বর্তমানে সরকার নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্রজেক্ট শুরু করায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং শিক্ষকদের কাছে দেশের একমাত্র নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টটির প্রয়োজনীয়তা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে রিঅ্যাক্টর ব্যবহার করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতি বছরে প্রায় ৩০০ জন ছাত্রকে ব্যাবহারিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। 

গবেষণা ক্ষেত্রে

  • সিআরআর-এর প্রকৌশলী/বিজ্ঞানীগন নিউক্লিয়ার সেফটি, রেডিয়েশন প্রটেকশন এবং নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। সিআরআর এর বিভিন্ন কর্মকর্তা কর্তৃক দেশি বিদেশী জার্নাল, কনফারেন্স প্রসিডিংস ইত্যাদিতে ৭০ টিরও অধিক কারিগরি প্রবন্ধ প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রশিক্ষণ ক্ষেত্রে

  • গবেষণা রিঅ্যাক্টর ব্যবহার করে সিআরআর এর প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী এবং পরীক্ষণ কর্মকর্তাদের নিয়মিতভাবে রিঅ্যাক্টর অপারেটর/ঊর্ধ্বতন রিঅ্যাক্টর অপারেটর বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। এছাড়াও ১৯৯৪ সালে এই ফ্যাসিলিটিতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রযুক্তি হস্তান্তরের আওতায় মরক্কোর ৩ জন পরমাণু প্রকৌশলীকে রিঅ্যাক্টর চালনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।

আর্ন্তজাতিক ক্ষেত্রে

  • IAEA Safeguards সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সিআরআর কর্তৃক নিয়মিত এবং যথাযথভাবে সম্পাদন করার প্রেক্ষিতে ২০০৭ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে IAEA বাংলাদেশেকে Integrated Safeguards (IS) কার্যক্রমের অন্তর্ভূক্ত করে। উল্লেখ্য যে, এ পর্যন্ত IAEA-এর সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মাত্র ২৬টি দেশে IS এর অন্তর্ভূক্ত হতে পেরেছে। IS এ অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি সিআরআর একটি গুরুত্বপূর্ণ সফলতা হিসাবে বিবেচনার দাবি রাখে।

 

পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন ও পরিচালনার ক্ষেত্রে রিঅ্যাক্টর ভুমিকা

  • বর্তমান সরকারের ডিজিটাল ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কমিশনের বিজ্ঞানী/প্রকৌশলীগণ রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। ডিজিটাল কন্ট্রোল কনসোল সিস্টেমের মাধ্যমে গবেষণা রিঅ্যাক্টর চালনা ও রিঅ্যাক্টরের বিভিন্ন সিস্টেমের রক্ষণাবেক্ষণ এবং রেডিয়েশন প্রটেকশন, নিউক্লিয়ার সেফগার্ডস, সেফটি কালচার, রিঅ্যাক্টর কোর ম্যানেজমেন্টসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কমিশনের বিজ্ঞানী/প্রকৌশলীর অর্জিত অভিজ্ঞতা পারমাণবিক বিদ্যুৎ চালনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

Share with :